কেন পড়ব সাংবাদিকতা ?

কেন পড়ব সাংবাদিকতা ?

বিশ্ববিদ্যালয় হলো নিজের ভেতরে থাকা সুপ্ত স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরের উর্বর ভূমি,বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মানেই নিজেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে বস্তুনিষ্ঠ মানুষ হিসাবে উপস্থাপন করা।…….


লেখক: Aurnob proshad kazzi প্রকাশের তারিখ: October 19, 2021

বিশ্ববিদ্যালয় হলো নিজের ভেতরে থাকা সুপ্ত স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপান্তরের উর্বর ভূমি,বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মানেই নিজেকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে বস্তুনিষ্ঠ মানুষ হিসাবে উপস্থাপন করা।যেখানে একজন শিক্ষার্থী বাঁচবে মানুষ পরিচয় নিয়ে,তার সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে পরিলক্ষিত হবে সাম্যের কবির সেই সুমহান আদর্শ,

“গাহি সাম্যের গান মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,নয়ে কিছু মহীয়ান।”

যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ই হলো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকিবিলা করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার উপযুক্ত মঞ্চ,তাই উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর সকল বোধসমপন্ন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর একজন হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। জনবহুল দেশ হওয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষাগুলোকে তুলনা করা হয় যুদ্ধের সাথে। ঢাল-তলোয়ার বিহীন ভর্তিযুদ্ধে উর্ত্তীণ হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থী দ্বিধা -দ্বন্দ্বের সম্মুখীন হয় বিভাগ বাছাইয়ের সময়। এসময় সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকেই আবেগের বশবর্তী হয়ে বা অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরিবারের চাপে বিভাগ বাছাই করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিরানন্দ জীবন চালনা করে। ভর্তিযুদ্ধে উর্ত্তীণ হওয়া শিক্ষার্থীদের বিভাগ বাছাইয়ের সময় কিছুটা আশার আলো দিতে আমার এই লেখা। সর্বপ্রথম বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের একটি বিখ্যাত বাণী উল্লেখ করতে চাই, “ Most people die at 25 and aren’t buried until 75.” এই মৃত্য দৈহিক মৃত্য নির্দেশ করে না,এই মৃত্য বলতে অতিউৎসাহী সমাজ বা পরিবারের চাপে মানুষ যে নিজের আশা,স্বপ্ন বা প্রত্যাশা পূরণের পথগামী না হয়ে, অন্যের ইচ্ছা পূরণের পথে চালিত হয়ে যে নিজের ইচ্ছাগুলোর অপমৃত্য ঘটায় সেটিকে নির্দেশ করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্ত্তীণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ হলো,বিভাগ বাছাইয়ের সময় অবশ্যই নিজেকে প্রাধান্য দেবে,অন্যকে নয়।নিজের মন যে বিভাগ গ্রহণের জন্য তোমাকে উদ্বুদ্ধ করবে তুমি সেই বিভাগ গ্রহণ করবে। তোমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়দের খ/ঘ ইউনিটে উর্ত্তীণ হবে তারা বিভাগ বাছাইয়ের তালিকায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগকে প্রাধান্য দিতে পারো। তোমারা যারা সৃজনশীলতা চর্চায় আগ্রহী,যারা লেখনীর মধ্য দিয়ে সমাজের গণমানুষের চাওয়া-পাওয়াগুলো সবার সামনে তুলে ধরতে চাও,যারা বস্তুনিষ্ঠতাকে সম্মান করো,তাদের জন্য উপযুক্ত বিভাগ হতে পারে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ । সাংবাদিকতা বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তোমার গণ যোগাযোগের আধুনিক নিয়মকানুন সম্পর্কেও অবহিত হতে পারবে এই বিভাগের সান্নিধ্যে।যা তোমাকে একজন দক্ষ যোগাযোগবিদ হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করবে।
বিভাগের ইতিহাসঃ ১৯৬২ সালে এক বছরের সান্ধ্যকালীন ডিপ্লোমা কোর্স হিসাবে যাত্রা শুরু করে এই বিভাগটি।১৯৬৮ সালে ডিপ্লোমা কোর্সের পাশাপাশি ২ বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্স চালু হয়।১৯৯৭-৯৮ সালে বিভাগটি চার বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স চালু করে। বর্তমানে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের আওতাধীন বিভাগটি স্নাতক(সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করছে।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম জগতের প্রথিতযশা মুখ অধ্যাপক ড.সাখাওয়াত আলী খান,অধ্যাপক ড.মো.গোলাম রহমান,অধ্যাপক শামসুল মজিদ হারুন,অধ্যাপক ড.আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী,অধ্যাপক আখতার সুলতানা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড.আ.আ.ম.স.আরেফিন সিদ্দিক, বর্তমান ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.শেখ আব্দুস সালামের মতো প্রবীণ শিক্ষকদের শিক্ষকতা ও ব্যক্তিত্ব যেমন এই বিভাগ কে করেছে বিকাশিত পাশাপাশি এই মহান শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ অনুসরণ করে দেশের গণমাধ্যম জগতে এসেছে অনেক পরিচিত মুখ।।যারা এই মহান শিক্ষকদের আদর্শ অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চাকে চলমান রেখেছে। এছাড়াও তোমরা যারা এই বিভাগে অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক তারা অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক ড.আবুল মনসুর আহমেদ,অধ্যাপক ড.কাবেরী গায়েন,অধ্যাপক ড.নাদির জুনায়েদ,অধ্যাপক ড.মো.মফিজুর রহমানের মতো নান্দনিক শিক্ষকদের সান্নিধ্যে নিজেকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম চর্চায় নিজেকে পরিশীলিত করতে পারবে।

সবশেষে, তোমাদের জন্য এই পরামর্শই রইল,বিভাগ বাছাইয়ের সময় নিজের পছন্দকে সবার আগে প্রাধান্য দিবে।ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ন সকলের জন্য রইল শুভকামনা। অর্নব প্রসাদ কাজ্জী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।