কেন পড়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

কেন পড়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয়। বাংলদেশের স্বাধীনতার বিভিন্ন আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের মহিমাময় ভূমিকা দেখা যায়।তোমার স্বপ্ন যদি হয় ৬০০ একরের এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তবে দেরি না করে এখন থেকেই সেভাবে এগিয়ে যাও।


লেখক: মিশুক বিশ্বাস প্রকাশের তারিখ: May 16, 2021

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আছে গৌরবময় ইতিহাস।এটিকে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়েছে অনেক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে । বঙ্গ ভঙ্গের ঘটনার পর পূর্ব বাংলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়।১৯১২ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় এসে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্য ‘নাথান কমিশন’ এর ঘোষণা দেন। এই কমিটির রূপরেখার ভিত্তিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায়। ১৩ সদস্যের কমিটি ছিল। তাতে রবীন্দ্রনাথকেও সদস্য পদ দেয়া হয়েছিল।ঢাবি প্রতিষ্ঠার জন্য নবাব সলিমুল্লাহ জমি প্রদান করেন।১৯২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাস হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায় ১জুলাই,১৯২১ এ।

এতো গেল এর প্রতিষ্ঠা কথা, বাংলদেশের স্বাধীনতার বিভিন্ন আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের মহিমাময় ভূমিকা দেখা যায়।১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয় মহান। রবি ঠাকুর দুবার এখানে আসেন। ১৯২৬ ও ১৯৩৬ সালের। তিনি ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকার জন্য “এই কথাটি মনে রেখ” কবিতাটি লেখেন।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয়।আপনি যদি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হন তাহলে আপনি সুযোগ পাবেন কার্জন হলে ক্লাস করবার। যা আপনাকে অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুভূতি দিবে। পুরোনো দিনের পরিবেশ পাবেন। এই খানে একসময় ক্লাস নিতেন পদার্থবিজ্ঞানের বিখ্যাত প্রফেসর সত্যেন বোস।

  • ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য ১৯ টি হল এবং ৫ টি হোস্টেল রয়েছে। প্রতিটি হলে রয়েছে আলাদা রিডিং রুম এর ব্যবস্থা, ডাইনিং রুম, ইনডোর খেলার ব্যবস্থা এবং ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা।

  • অনাবাসিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৩৪ টি বাস রয়েছে। যা বিভিন্ন রুটে সপ্তাহে ৫ দিন চলাচল করে।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ছয় লাখ আশি হাজারেরও অধিক বই আছে। এখানে বইয়ের পাশাপাশি দৈনিক সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও অন্যান্য জার্নাল আছে।পাশাপাশি প্রতিটি অনুষদ ও ইনস্টিটিউট ভিত্তিক আলাদা আলাদা গ্রন্থাগার আছে। যার মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ই-লাইব্রেরী অন্যতম।

  • এছাড়াও এখানে রয়েছে ৫২ টি গবেষণা কেন্দ্র ও ব্যুরো। বিজ্ঞন অনুষদের প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে একাধিক ল্যাব। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এর মত বিভাগগুলোতে রয়েছে প্রায় ৫০ টইর মত কোর্সভিত্তিক ল্যাব। যা দেশের গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অনেক ভূমিকা রাখছে।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলা করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় মাঠ আছে। এছাড়াও প্রত্যেক হলে আলাদা মাঠ রয়েছে খেলাধুলার জন্য। বিনোদনের জন্য অনেক সাংস্কৃতিক সংঘ আছে।এছাড়াও রয়েছে সুদৃশ সুইমিং পুল, জিমনেশিয়াম, জুডো-কারাতে সেন্টার ।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের সংগ্রহশালা আছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগে আছে বিভিন্ন animal specimen ।

  • এছাড়া মনোবৃত্তির বিকাশে আছে নানা ক্লাব।পৃথিবীর ভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার নানা সুযোগ রয়েছে।উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র,বাংলাদেশ উদীচি শিল্পীগোষ্ঠী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টুরিস্ট সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি (DUITS), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স সোসাইটি (DUSS), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যান্ড সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষনা সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, বাংলাদেশ ওপেন সায়েন্স অর্গানাইজেশন, বাঁধন, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন ইত্যাদি।

  • বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানা বিষয়ে এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভাস্কর্য আছে। উল্লেখযগ্যা স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্যগুলো হল, ১. অপরাজেয় বাংলা: ২. সন্ত্রাস বিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য: ৩. শহীদ মিনার: ৪. দোয়েল চত্বর ৫. তিন নেতার মাজার ৬. ঢাকা গেইট ৭. স্বাধীনতা সংগ্রাম ৮. ঘৃণাস্তম্ব ৯. স্বোপাজিত স্বাধীনতা ১০. মধুদার ভাস্কর্য ১১. সপ্তশহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ১২. শহীদ ড.মিলন ভাস্কর্য ১৩. স্বামী বিবেকানন্দ ভাস্কর্য ১৪. বৌদ্ধ ভাস্কর্য ১৫. শান্তির পায়রা ভাস্কর্য ১৬. মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ এগুলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • তাছাড়া বাংলাদেশে মেডিকেল এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পর এই বিশ্ববিদ্যালয়কে যথেষ্ট সম্মান দেয়া হয়। চাকরির ক্ষেত্রেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিক গুরুত্ব দেয়া হয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হতে। এটি যথেষ্ট ভালো মানের প্রতিষ্ঠান।

ক্যাম্পাস লাইফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাইফ এক কথায় অসাধারণ। পড়াশুনা, খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে একটি পারফেক্ট ক্যাম্পাস লাইফ এখানে উপভোগ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় যে শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, বরং এর সাথে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। এছাড়াও পড়াশুনার যে কোনো সমস্যায় বড় ভাইয়া আপুরা এগিয়ে আসে। শিক্ষকগণও অনেক সাহায্য করে। । সবুজ প্রকৃতির মধ্যে পড়াশুনার একটা ভালো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উৎসবের ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক অনেক এগিয়ে। পহেলা বৈশাখ উৎসব, বসন্ত উৎসব, আষাঢ় উৎসব, একুশে ফেব্রুয়ারি উৎসব সহ অনেক উৎসব পালন করে থাকে। এই উৎসব গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষণার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকে। দেশের জাতীয় শহীদ মিনার এই বিশ্ববিদ্যালয়েই অবস্থিত। পহেলা বৈশাখে চারুকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরাসহ অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা মিলেমিশে দেশের সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এছাড়াও, বার্ষিক ভ্রমন, বিভিন্ন সময়ে কনসার্ট, আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতা, আন্তঃহল প্রতিযোগিতাসহ অনেক খেলার আয়োজন করে। পাশাপাশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনেক অনুষ্ঠান এর ব্যবস্থা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেক হলেই আছে বিতর্ক ক্লাব। এজন্য এখানে ক্যাম্পাস লাইফটা অনেক মজার।

ভর্তি প্রস্তুতি

এবার থেকে সর্বমোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হবে। এর মধ্যে ৬০ নম্বর বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও ৪০ নম্বর লিখিত আসবে। পরীক্ষা এর বিষয় গুলা আগের মতোই থাকবে। অর্থাৎ প্রত্যেক ইউনিটে নিজস্ব গ্রুপের বিষয়াবলীর উপর প্রশ্ন হবে। শুধু মানবন্টনটা পরিবর্তন হবে। ঢাবি পরীক্ষায় ভালো পজিশন করতে হলে প্রত্যেকটা বিষয় খুব ভালো করে পড়া লাগবে।কারণ ঢাবির প্রশ্নটা একটু ব্যাসিক লেভেল থেকে করা হয়। খুব অল্প টাইম এর মধ্যে একটা বহুনির্বাচনি করার চেষ্টা করতে হবে। আর লিখিত প্রশ্নের জন্য ছোট ছোট ম্যাথ গুলা প্র্যাকটিস করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় সময় খুব কম থাকে। তাই ভর্তি যুদ্ধে এগিয়ে থাকতে অল্প সময়ে সমাধান করার চর্চা থাকতে হবে। বাসায় বিগত বছরের প্রশ্নে পরিক্ষা এবং মডেল টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করতে পারো। পরীক্ষাগুলি ভালো করার চেষ্টা করে যেতে থাকতে হবে। নিজেকে যাচাই করে নিতে হবে ভালোভাবে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। বই গুলার উপরে ভালো দক্ষতা রাখতে হবে। এছাড়াও সহায়ক বই গুলো প্রস্তুতিকে পূর্ণ করে। তাহলেই আসা করা যায় তুমি সফল হবে ইনশাআল্লাহ।

শেষ কথা

তোমার স্বপ্ন যদি হয় ৬০০ একরের এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তবে দেরি না করে এখন থেকেই সেভাবে এগিয়ে যাও। তোমাদের আগমনে ক্যাম্পাস মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। তোমাদের চেষ্টা সফল হোক।

Image courtesy : Beauty of DU campus fb page